বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৫ রানে অলআউট করে ঢাকা টেস্টে ইনিংস ও ৮ রানের জয় তুলে নিল পাকিস্তান।

পাকিস্তান ৪ উইকেটে ৩০০ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৮৭ রানে অলআউট হয়। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩০০ রান করতে না পারায় ইনিংস ব্যবধানেই হারল মমিনুল বাহিনী। ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জিতল বাবর আজমের দল।

বাজে ব্যাটিংয়ের প্রদর্শন করে হারল বাংলাদেশ। প্রথম দিনে ৫৭ ওভারের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনে ৬.২ ওভারের খেলা মাঠে গড়ায়। তৃতীয় দিনে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। প্রথম তিন দিনে মাত্র ৬৭ ওভারের খেলা হয়েছে।

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ৩০০ রানকে দুই ইনিংস দিয়েও টপকে যেতে না পারার এই ব্যর্থতা নিশ্চয়ই ভাবাবে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টকে।

বাংলাদেশের দুই ইনিংস মিলিয়ে কোনো শতক নেই। অর্ধশতক মাত্র একটি, সাকিব বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৩ রান করেন। প্রথম ইনিংসেও দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন সাকিব। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ‘ডাক’সংখ্যা ৪টি।

ঢাকায় এই টেষ্ট স্মরণীয় হয়ে থাকবে সাজিদ খানের কাছে। ১২৮ রানে ১২ উইকেট নেন এ অফ স্পিনার। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে নেন ৮ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর শিকার ৪ উইকেট।

মিরাজ-সাকিবের বিদায়ে হারের পথে বাংলাদেশ। সাজিদ খানের বোল্ড হন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ১৩০ বলে ৬৩ রান করা সাকিবের ব্যাটে লিড নেওয়ার পাশাপাশি ড্রয়ের স্বপ্নও দেখেছে বাংলাদেশ। তাঁকে আউট করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দুই ইনিংস মিলিয়ে এরই মধ্যে ১০ উইকেটের দেখা পেলেন পাকিস্তানের অফ স্পিনার সাজিদ খান।

আজ দ্বিতীয় ইনিংসে খেলার শেষ ঘন্টার শুরুতে বল হাতে তুলে নেন পাকিস্তান অধিনায়ক। দ্বিতীয় বলেই মেহেদী হাসানকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেটের খাতা খুললেন বাবর।

এর মধ্য দিয়ে সপ্তম উইকেটে সাকিব–মিরাজের ১৩৯ বলে ৫১ রানের জুটি ভেঙে গেল।

সাকিবের অর্ধশতক

৬২তম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে অর্ধশতক তুলে নেন সাকিব। এই টেস্টে এটাই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম অর্ধশতক। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে কেউ অর্ধশতকের দেখা পাননি। সাকিবের ব্যাট থেকেই এসেছিল সর্বোচ্চ ৩৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে অর্ধশতক তুলে নিলেন তিনি।

৫০ রানে ব্যাট করছেন তিনি। অন্য প্রান্তে রয়েছেন মেহেদী হাসান। ৬ উইকেটে ১৭৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

রান আউটে মুশফিকের বিদায়

সাকিব আল হাসানের সঙ্গে একটা জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ভুল সময়ে ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিলেন তিনি। পাকিস্তানি বাঁ হাতি স্পিনার নোমান আলীর বলে স্কয়ার লেগের দিকে ঠেলেছিলেন সাকিব। কিছুটা দোটানায় ছিলেন, রানটা নেবেন কিনা! কিন্তু মুশফিক কল দিলেন। স্কয়ার লেগ থেকে আবদুল্লাহ শফিকের থ্রো ধরে স্টাম্প ভেঙে দিলেন উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ান।

জুটি ভেঙে ফিরলেন লিটন

নবম ওভারে ২৫ রানের মধ‍্য ৪ উইকেট হারানো হারানো বাংলাদেশকে টানতে থাকা মুশিফকুর রহিম ও লিটন দাস গড়ে তুলেছিলেন প্রতিরোধ। জমে ওঠা লিটন কুমার দাস- মুশফিকুর রহিমের জুটি যখন জমে উঠছিল তখনই লিটন ডেকে আনলেন নিজের পতন। আলগা শটে তিনি উইকেট উপহার দিলেন সাজিদ খানকে।

সাজিদের বলটি ছিল একদমই শর্ট বল। টার্ন করে ঢুকছিল ভেতরে। অন সাইডে যে কোনো জায়গায় অনায়াসে খেলতে পারতেন লিটন। কিন্তু বল যতটা বাজে, লিটনের শট হলো আরও বাজে। বলটি টেনে পুল করে তিনি ক্যাচিং অনুশীলন করালেন স্কয়ার লেগে। শুরুতে হাত থেকে ফসকে গেলেও পরে ফাওয়াদ আলম পরমুহূর্তেই তালুবন্দি করেন বল।

স্বচ্ছন্দে খেলতে থাকা লিটন আউট হলেন ৮১ বলে ৪৫ রান করে। মুশফিকের সঙ্গে তার জুটি থামল ৭৩ রানে। সাজিদ পেলেন ম্যাচে নবম উইকেটের দেখা।

নতুন ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান।

মুশফিক-লিটনের জুটিতে পঞ্চাশ

নবম ওভারে ২৫ রানের মধ‍্য ৪ উইকেট হারানো হারানো বাংলাদেশকে টানছেন মুশিফকুর রহিম ও লিটন দাস। ৯০ বলে তাদের জুটি ছুঁয়েছে পঞ্চাশ।

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে এই দুই ব‍্যাটসম‍্যান উপহার দিয়েছিলেন ২০৬ রানের জুটি। জুটিতে অগ্রণী লিটন, তার ব‍্যাট থেকে এসেছে ৩১। মুশফিকের অবদান ১৬।

ফলোঅনে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে ফলোঅন পড়ে মাঠে নেমেই ৪ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন শান্ত

নাজমুল হাসান শান্তর জন্য দুটি গালি রেখে বোলিং করছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। সেই পরিকল্পনা সফল হলো দারুণভাবে। একটি গালিতেই ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন শান্ত।

আফ্রিদির ডেলিভারিটি লেংথ থেকে লাফিয়ে ওঠে খানিকটা। সেটি সামলানোর সামর্থ্য ছিল না শান্তর। তিনি চেষ্টা করেন সফট হ্যান্ডে খেলার, তবে তার পরও বল রাখতে পারেননি নিচে। গালিতে সহজ ক্যাচ নেন ফাওয়াদ আলম। ১১ বলে ৬ করে আউট শান্ত। বাংলাদেশ ৪ উকেটে ২৫।

রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারলেন না মুমিনুল

নাজমুল আউট হওয়ার সাত বল পর অধিনায়ক মুমিনুল। হাসান আলীর ভেতরে ঢোকানো বল ব্যাটে খেলতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। মুমিনুল রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারলেন না! তৃতীয় আম্পায়ারও মাঠের আম্পায়ারের সঙ্গে একমত হন। ৭ রান করে আউট হলেন মুমিনুল। বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১৯ রান তুলেছে।

মাহমুদুল হাসানের পর ফিরলেন সাদমান

মাহমুদুল আউট হওয়ার চার বল পরই শাহিন আফ্রিদির বলে এলবিডব্লু হন সাদমান হোসেন (২)। ২ উইকেটে ১২ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

৬ রানে ফিরলেন মাহমুদুল হাসান

ফলোঅনে পড়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান। বোলিংয়ের শুরু করেন শাহিন আফ্রিদি। পরের ওভারটি করেন হাসান আলী। দুই পেসার দিয়ে বোলিং শুরু করে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম।

প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া অভিষিক্ত মাহমুদুল হাসান আলীকে চার মেরে টেস্ট ক্রিকেটে রানের খাতা খুলেছেন। অভিষেকে দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হলেন তিনি ৬ রানে। প্রথম ইনিংসে বোলিং না পাওয়া হাসান আলি পেলেন ম্যাচে প্রথম উইকেটের দেখা।

৮৭ রানে অলআউট বাংলাদেশ

৪ উইকেটে ৩০০ রানে পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ঘোষণার পর মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ।

ফলো-অন এড়াতেই প্রয়োজন ছিল আরো ২৫ রান। শেষ দিনে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে সেই ২৫ রানও করতে পারলেন না সাকিবরা। শেষ পর্যন্ত ২১৩ রানের ফলো-অনে পড়লো বাংলাদেশ। শেষ ভরসা ছিলেন যিনি, সেই সাকিব আল হাসানই আউট হলেন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। তাকে ফিরিয়ে সাজিদ খান ধরলেন অষ্টম শিকার।

সাজিদের একটি বলে বাউন্ডারি মারার পরের বলেই ডাউন দা উইকেট খেলতে যান সাকিব। তা দেখে লেংথ খাটো করে দেন সাজিদ। সাকিব চালিয়ে দেন ব্যাট। শর্ট কাভারে ক্যাচ নেন আজহার আলি।

ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৩ রান করে ফিরলেন সাকিব। বাংলাদেশ অলআউট ৮৭ রানেই।

শূন্য রানে ফিরলেন খালেদ

শাহিন শাহ আফ্রিদির তোপের সামনে টিকতে পারলেন না সৈয়দ খালেদ আহমেদ। রাউন্ড দা উইকেটে দুর্দান্ত ইয়র্কার করেন বাঁহাতি ফাস্ট বোলার। ব্যাট পেতে দিয়েও বল ঠেকাতে পারেননি খালেদ। ২ বলে শূন্য রানে ফিরলেন খালেদ।

শুরুতেই তাইজুলের বিদায়

রোদ-ঝলমলে দিনের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারেই সাজিদ খান ফেরান তাইজুল ইসলামকে। সাজিদ খানের ঝুলিয়ে দেয়া লেংথ বল টার্ন করে করে উইথ দা আর্ম ভেতরে ঢোকে একটু। তাইজুলের ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে বল লাগে প্যাডে। আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার।
তাইজুল বাঁচতে পারেননি রিভিউ নিয়েও। বরং রিভিউ হারায় বাংলাদেশ। ১৬ বলে শূন্য করে আউট হলেন তাইজুল।

প্রকৃতির আঁধার কেটে গেলেও বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম এখন ডুবে অন্ধকারে। প্রথম চার দিনের মধ্যে ওভারের হিসেবে আড়াই দিনের বেশি খেলা হয়নি, তার পরও সামনে ঝুলছে হারের খড়গ।

৪ উইকেটে ৩০০ রানে পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ঘোষণার পর বাংলাদেশ চতুর্থ দিন শেষ করে ৭ উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে। ফলো-অন এড়াতেই প্রয়োজন আরো ২৫ রান।

উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী হয়ে মাঠে নামে তাইজুল ইসলাম। ফলো-অন এড়াতে না পারলে বাংলাদেশের হারের শঙ্কাও প্রবল হয়ে উঠছে আরো।

প্রকৃতির প্রতিবন্ধকতায় টানা চারদিনের খেলা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর অবশেষে একটি পূর্ণাঙ্গ দিন পাওয়ার আশা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আকাশে ঝলমলে রোদ। কালো মেঘের ছায়া নেই একটুও। উইকেটে নেই কাভার। ছোট রোলার দিয়ে আম্পায়ারের তত্ত্বাবধানে চলছে হালকা রোলিং।

চতুর্থ দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৯৮.৩ ওভারে ৩০০/৪ (ডি.) (আগের দিন ১৮৮/২) (আবিদ ৩৯, শফিক ২৫, আজহার ৫৬, বাবর ৭৬, ফাওয়াদ ৫০*, রিজওয়ান ৫৩*; ইবাদত ২৩-৩-৮৮-১, খালেদ ১৭.৩-৫-৪৯-১, সাকিব ১৯-৭-৫২-০, তাইজুল ২৫-৬-৭৩-২, মিরাজ ১৪-২-৩৭-০)।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৬ ওভারে ৭৬/৭ (সাদমান ৩, মাহমুদুল ০, শান্ত ৩০, মুমিনুল ১, মুশফিক ৫, লিটন ৬, সাকিব ২৩*, মিরাজ ০, তাইজুল ০*; আফ্রিদি ১-০-১-০, নুমান ১২-২-৩৩-০, সাজিদ ১২-৩-৩৫-৬, বাবর ১-০-১-০)।