ভারতের লোকসভায় বিরোধীদের ব্যাপক প্রতিবাদ সত্ত্বেও ‘নির্বাচনী আইন (সংশোধন) বিল’ পাস হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার ওই বিল পাস হয়। এতে আধার কার্ডের সঙ্গে ভোটার কার্ড সংযুক্ত করাসহ নির্বাচনী আইনে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

এনডিটিভির ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নির্বাচনী সংস্কারের ক্ষেত্রে এই বিলকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ মনে করা হচ্ছে। আধার হচ্ছে ১২ ডিজিটের নম্বরসহ পরিচয়পত্র। যাতে নাগরিকদের পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে নাম-ঠিকানা থাকে।

বিরোধী দলগুলো বলছে, এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের নাগরিক নয় এমন ব্যক্তিদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হলো। 

তবে লোকসভায় কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর বলেন, ভারতে থাকার অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও আধার কার্ড পেয়ে থাকেন। এটি ভারতে থাকার অনুমতির প্রমাণ। নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।

আরেক কংগ্রেস নেতা মণীষ তেওয়ারি বলেন, ভোট হলো আইনি অধিকার। এর সঙ্গে আধার কার্ডকে যুক্ত করা ভুল সিদ্ধান্ত। 

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সৌগত রায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে। আমি এই বিলের বিরোধিতা করছি।

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা একযোগে বিলটির বিরোধিতা করে স্লোগান দেন।

সরকার এই আপত্তিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, সরকার ভুয়া ভোট বন্ধ করতে চায়। বিরোধীদের উচিত এই পদক্ষেপকে সমর্থন দেওয়া। পক্ষে-বিপক্ষে স্লোগান ও চিৎকার চলতে থাকায় অধিবেশন দুই ঘণ্টার জন্য মুলতবি করা হয়।

খসড়া বিলে ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের পরিবর্তন করা হয়েছে। আধারের সঙ্গে ভোটার কার্ড সংযুক্ত করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ বৃদ্ধিসহ একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় একই নামের পুনরাবৃত্তি ও ভুয়া ভোট রুখতে ভোটার পরিচয়পত্রের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত করা হবে। ভোটার তালিকাকেও আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে বিলে। তবে আপাতত এই সংযুক্তিকরণকে ঐচ্ছিক বলেই পেশ করা হচ্ছে।

ভোটার তালিকায় নাম তোলাসংক্রান্ত বিষয়গুলোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি বা তার আগে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়াদের ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি কারো বয়স ১৮ বছর পার হলে তাঁকে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। খসড়ায় ভোটার তালিকায় নাম তুলতে বছরে চারবার সুযোগ দেওয়া হবে। 
সূত্র : এনডিটিভি।