এস আই মাহফুজ মিশু, নোয়াখালী

বসতবাড়ীর সেফটি ট্যাংকে একটি অজ্ঞাত লাশ পাওয়া নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সংবাদ পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে জড়িত আসামী গ্রেফতার ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশ।

নোয়াখালী সদর উপজেলার ৯নং কালাদরাপ ইউনিয়নের উত্তর চাকলা গ্রামের ছটকি বাড়ীর হারুনুর রশিদের বাথরুমের সেপটি ট্যাংকির ভিতর একজন অজ্ঞাতনামা পুরুষ ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ সেপটি ট্যাংকির ভিতর হইতে উদ্ধার করে। এসআই(নিঃ) ত্রিদীপ বড়ুয়া লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

উক্ত অজ্ঞাতনামা লাশের বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত করে জানা যায় এই অর্ধগলিত লাশটি ওমর ফারুখ(৩২), পিতা-আলী আহমদ, মাতা-রোপিয়া বেগম, সাং-উত্তর সরদার ঘোনা, ০৪নং ওয়ার্ড, ডাকঘর-কালারমারছড়া, ০৩নং কালারমারছড়া ইউপি, থানা-মহেশখালী, জেলা-কক্সবাজার। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আকরামুল হাসান, সদর সার্কেল, নোয়াখালীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরবর্তীতে ব্যাপক তদন্ত ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সুধারাম মডেল থানার ০১টি চৌকস টিম এসআই(নিঃ) ত্রিদীপ বড়ুয়া, এসআই(নিঃ) প্রমোজ সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামী আনছারুল করিম(৩৮), পিতা-মোহাম্মদ ইসমাইল, মাতা-ফাতেমা বেগম, সাং-ইউনুছ খালী(রুবির বড়বাড়ী), ডাকঘর-কালারমারছড়া, ০৩নং কালারমারছড়া ইউপি, থানা-মহেশখালী, জেলা-কক্সবাজারকে ০৯/০৫/২০২২খ্রিঃ তারিখ রাত ০২.০০ ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আকবর শাহ থানা এলাকা হইতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করিয়া গ্রেফতার করা হয়। উক্ত আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গত ১৮ রমজানে করিমের সাথে তার স্ত্রী শারমিনের ডির্ভোস হয়। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ফাঁসানোর জন্য আসামীর দূরসম্পর্কের মামা(উপরোক্ত ভিকটিম)কে গত ০৫/০৫/২০২২খ্রিঃ তারিখ রাত ০৮.৩০ ঘটিকার সময় আরো ০১ আসামীর সহায়তায় ভিকটিমের পরিহিত শার্ট দিয়ে ভিকটিমকে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ সেপটি ট্যাংকির ভিতরে ফেলে রাখে।

উক্ত সংক্রান্তে ভিকটিমের ভাই আব্দুর রহমান বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় এজাহার দায়ের করিলে সুধারাম মডেল থানার মামলা নং-০৮, তাং-০৯/০৫/২০২২খ্রিঃ ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান মামলাটি এসআই(নিঃ) ত্রিদীপ বড়ুয়া তদন্ত করিতেছেন, তিনি আরোও বলেন ইতিমধ্যে সুবর্ণচর ও বেগমগঞ্জ ঘটিত দুটি আলোচিত ঘটনার মূল আসামিদের আমরা গ্রেফতার করেছি এবং বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।।