চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি : মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক শতাংশ জমি দখলকে কেন্দ্র করে মো: ইসরাফিল (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের তারশাইল-দূর্গাপুর গ্রামে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যকার হামলা-পাল্টা হামলায় ২ নারীসহ কমপক্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অপর দু’জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ইসরাফিল হত্যার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার রাতে ঘাতক সজিবসহ ৬ জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের তারাশাইল-দূর্গাপুর গ্রামের হানিফ মিয়া ও পাশ্ববর্তী বাড়ীর মোক্তল হোসেনের মধ্যে বসতবাড়ির পাশের এক শতাংশ জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস-দরবার হলেও সমাধান না হওয়ায় পরবর্তীতে উভয়পক্ষ কনকাপৈত চেয়ারম্যানের নিকট বিচারের আবেদন করে। বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিষদে বসে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। এদিকে হানিফ মিয়া বিরোধপূর্ণ এক শতাংশ জায়গার মালিকানা চেয়ে মুক্তুল হোসেনকে বিবাদী করে কুমিল্লার আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত রবিবার দুপুরে মুক্তুল হোসেন উক্ত জায়গায় খড়ের গাঁদা তৈরি করে জমিটি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় হানিফ মিয়ার ছেলে ইসরাফিলের নেতৃত্বে ও তার ভাই সালমানসহ পরিবারের লোকজন নিয়ে বাধা দিতে গেলে মুক্তুল হোসেনের ছেলে সজিবের নেতৃত্বে পরিবারের লোকজন লাঠিসোটা ও ছুরি নিয়ে ইসরাফিলের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় সজীবের ছুরিকাঘাতে ইসরাফিল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ইসরাফিলের আত্ম-চিৎকারে তার চাচাতো ভাই রামীম, মা রিনা বেগম ও চাচি আয়েশা বেগম তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে মুক্তুল হোসেনের ছেলে ও মেয়েরা তাদেরকে লাঠিপেটা করে গুরুতর আহত করে।

পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ইসরাফিলসহ অপর আহতদেরকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসরাফিলকে মৃত ঘোষণা করেন। ইসরাফিলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা মুক্তুল হোসেন ও তার স্ত্রী-মেয়েসহ পরিবারের ৫ সদস্যকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক সজিব পলাতক রয়েছে।

নিহত ইসরাফিলের মা রিনা বেগম বলেন, ‘চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি ঘাতক সজিব আমার ছেলেকে ছুরিকাঘাত করেছে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তারা আমাকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার চোখের সামনে তারা আমার কলিজার টুকরো ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই।

কনকাপৈত ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল বলেন,মুক্তুল হোসেনের সাথে নিহত ইসরাফিলের বাবা হানিফ মিয়ার জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে একাধিকবার শালিসী বৈঠক হয়। বিরোধটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা আদালতের স্মরণাপন্ন হয়।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলায় ইসরাফিল নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার রাতে ৬ জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। মামলার এজহারভুক্ত আসামীরা হলেন মুক্তুল হোসেন, তার স্ত্রী রহিমা বেগম, ছেলে সজিব, মেয়ে নাছরিন, আইরিন, মৌসুমী। প্রধান অভিযুক্ত সজিবকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।