মোঃ রোমান- ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে শামীম হক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ইশতিয়াক আরিফের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘোষণা দেন সম্মেলনের প্রধান অতিথি কাজী জাফরউল্লাহ।

১২ই মে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে এ সম্মেলনের আয়োজন হয়। দুপুর ১২টার দিকে ভার্চুয়ালি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিগত কমিটির সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা। সঞ্চালনা করেন বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন।

এর আগে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে ১০ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ২১ জন পদপ্রত্যাশীর নাম ঘোষণা করেন। তাদেরকে নিজেরাই আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে একজন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য কিছু সময় দেয়া হয়। তবে তারা নিজেদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় নতুন নেতা নির্বাচনে সমঝোতায় আসতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর দ্বায়িত্ব দেন। এরপর দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন কাজী জাফরউল্লাহ।

সম্মেলনের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান এমপি ও আব্দুর রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কামাল হোসেন, বিএম মোজাম্মেল, দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ। কার্যনির্বাহী সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজি, ইকবাল হোসেন অপু এমপি, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম এমপি, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন ও এ. কে আজাদ, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারসহ জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন ১৮ জন। সম্মেলনের প্রথম পর্বে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতিক পায়রা উড়ানো, এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং গীতা ও বাইবেল পাঠের মাধ্যমে বেলা পৌনে ১২টার দিকে সম্মেলনের শুরু হয়। এরপর শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

সম্মেলনে সকাল থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও সকল উপজেলা ও পৌরসভা হতে নেতাকর্মীরা সম্মেলনে মিছিল সহকারে যোগ দেন। এতে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে শহরের রাজেন্দ্র কলেজের ময়দান। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী সম্মেলনে পৌছেন। সম্মেলন উপলক্ষে শহরের বাইরে থেকে সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এ উপলক্ষে।

সম্মেলনের উদ্বোধনকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি সরকারের উন্নয়ন দেখেনা তারা দিনের আলোতে অন্ধকার দেখে। সরকারের উন্নয়ন তাদের চোখে পড়েনা। আওয়ামী লীগ নয় জনগণ মনে করে আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য নির্বাচনে ব্যর্থতার জন্য বিএনপির টপ টু বটম নেতৃবৃন্দের পদত্যাগ করা উচিত।

তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণ চাতকের মতো চেয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুনের শেষের দিকে বহু প্রতিক্ষিত পদ্মা বহুমুখী সেতুর উদ্বোধন করবেন।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধনের পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ২য় পদ্মা সেতু তৈরির ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এবিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ফরিদপুরের প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফরিদপুরে অনেক রক্তপাত হয়েছে। আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। এর পুনরাবৃত্তি যেনো আর না হয়। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও অর্থপাচারকারীদের দলে স্থান দেয়া হবেনা।

তিনি বলেন, এবারের সম্মেলনে গঠিত নয়া কমিটি দলকে সুসংগঠিত করে আগামী নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনেই আওয়ামী লীগের বিজয় ছিনিয়ে আনবে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আধুনিক এবং ইস্পাতের মতো শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। সংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং স্মার্ট নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।