মানিকগঞ্জে পিবিআই’র অভিযানে ১৭ মামলার আসামি কুদ্দুস ডাকাত গ্রেপ্তার।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর বিশেষ অভিযানে চুরি, ডাকাতি ও হত্যাসহ ১৭ মামলার আসামি কুদ্দুস ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোর ২টা ২৫ মিনিটে জেলার সিংগাইর থানার ওয়াইজনগর এলাকার নিজ বসতবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চোরাইকৃত একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডিশনাল আইজিপি ও পিবিআই প্রধান মো. মোস্তফা কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী, পিএসসি’র নিবিড় তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) সুখেন্দু বসুর নেতৃত্বে পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলার একটি চৌকস দল দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানে সফলতা অর্জন করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে সিংগাইর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ছানোয়ার হোসেন (৫৬) ও তার পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। ওই রাত আনুমানিক রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে অজ্ঞাত চোরেরা বাড়ির একতলা ভবনের একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে একটি বিদেশি ব্রিফকেসসহ তিনটি স্মার্ট ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। চোরাইকৃত ব্রিফকেসে ১৪টি জমির দলিল, ১১৮টি জমির পর্চা, নগদ ২০ হাজার টাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ছানোয়ার হোসেন গত ২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে সিংগাইর থানা পুলিশ দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর কোনো আসামি শনাক্ত বা আলামত উদ্ধার না করে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে। পরবর্তীতে বাদী নারাজি আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

পিবিআইয়ের পুনঃতদন্তে অভিযুক্ত কুদ্দুস ডাকাতকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত কুদ্দুস ডাকাত (পিতা—মৃত সাদেক হোসেন) এর বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও হত্যাসহ মোট ১৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং তার নামে পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত স্মার্ট মোবাইল ফোনটি প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত সিআর মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।