বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নে মেউর খালে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ!
মিজানুর রহমান স্বাধীন:
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১০ নং গারুড়িয়া ইউনিয়নে ১৭.০১.২০২৬ শনিবার রাতে বারঘরিয়া গ্রাম ও রবিপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া মেউর খালে বিষ দিয়ে কোটি কোটি মাছ নিধন করেছে বারঘরিয়া গ্রামের ইস্কান্দার খানের ছেলে এনায়েত খান। খালের পানিতে বিষ দিয়ে মাছ নিধনে এনায়েত খানের সাথে ৬ থেকে ৭ জন ব্যক্তি জড়িত থাকলেও এলাকাবাসী টের পাওয়ার সাথে সাথে এনায়েতের সহযোগীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।
বিষ প্রয়োগ করে খালের মাছ নিধনের বিষয়ে এনায়েতের কাছে জানতে চাইলে এনায়েত বলেন ইউটিউবে দেখে আমি ধানের ঔষধ দিয়েছি কিন্তু এতেযে ছোট বড় সব মাছ মারা যাবে আমি তা বুঝতে পারিনি, তবে এত বড় অপরাধের পরেও এনায়েতের মধ্যে কোন অনুশোচনার আভাস পাওয়া যায়নি।
এই খাল থেকে মেউর গ্রাম, রবিপুর গ্রাম ও বারঘরিয়া গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার জনগণ মাছ শিকার করে থাকেন। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আগামী ছয় মাসে এইখানে আর তেমন কোন মাছ পাওয়া যাবে না কারণ ছোট ছোট চিংড়ি মাছ যার সংখ্যা কোটি কোটি চিংড়ি মাছ এই বিষ প্রয়োগের কারণে মারা গিয়েছে, বিষক্রিয়ায় দুর্বল খালের মাছগুলো দুর্বল হয়ে যাওয়ায় খালির কিনারা থেকে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি ১ থেকে দেড় কেজি করে চিংড়ি মাছ ধরতে সক্ষম হলেও বাকি মাছ খালে ভাটা থাকার কারণে নদীতে চলে যায়। চিংড়ি মাছের সাথে পুটি মাছ, পাবদা মাছসহ অসংখ্য মাছ বিষক্রিয়ায় মারা যায়। বিষ প্রয়োগের প্রায় ঘন্টাখানেক পরে এলাকাবাসী এনায়েতকে মাছ ধরতে দেখতেপায় খালের পানিতে টর্চ লাইট মারার সাথে সাথে পানি থেকে ছোট ছোট চিংড়ি মাছ কিনারায় লাফিয়ে উঠতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে এনায়েতকে প্রশ্ন করে এবং এনায়েত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, এনায়েতকে চিনতে পারলেও বাকিরা আগেই পালিয়ে যায।
বিষ দিয়ে মাছ নিধনের বিষয়টি রবিপুর গ্রামের নুরুল হক জোমাদ্দারের ছেলে হৃদয় জোমাদ্দার প্রথমে দেখতে পায়, হৃদয়ের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে এনায়েতের সহযোগীরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানানোর কারণে হৃদয়কে দেখে নেয়ার হুমকি দেন এনায়েত।
অপরাধীদের বাঁচাতে বারঘরিয়া ও রবিপুরের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘুষ হিসেবে মাছ ও টাকার বিনিময়ে অপরাধীদের রক্ষায় ব্যাপক তৎপরতা চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে, তথ্য প্রমাণ নিয়ে খুব শীঘ্রই অপরাধীদের এ সকল গডফাদারদের ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ করা হবে।
প্রয়োজনে এলাকাবাসী এক হয়ে অপকর্মের ফিরিস্তি সহ অপরাধী ও তাদের গডফাদারদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।
এ ধরনের নেককারজনক কাজের নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এলাকাবাসী।












