বরিশাল জেলা প্রতিনিধি:
বরিশালের বাবুগঞ্জে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এক সময়ের সুদী ব্যবসায়ী আউয়াল হাওলাদার।
সম্প্রতি প্রকাশ্য দিবালোকে দলীয় কর্মী রবিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি হওয়ার পর বেরিয়ে আসছে তার অতীতের লোমহর্ষক সব অপরাধের তথ্য।
সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, আউয়াল হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চড়া সুদের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সাধারণ মানুষকে ঋণের জালে ফেলে তাদের জমি ও ঘরবাড়ি দখল করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি মো: হাফিজুর রহমান নামে এক প্রবাসীকে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ দেন আউয়াল। ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, ঋণের টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও আউয়াল তাদের জমি ফেরত না দিয়ে উল্টো আরও ২০ লক্ষ টাকা দাবি করে। আউয়াল এই অতিরিক্ত টাকার জন্য হুমকি দিতে থাকে পরিবারটিকে। আউয়ালের রোষানালে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া অসহায় ভুক্তভোগী পরিবারটি অতিরিক্ত টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গভীর রাতে তাদের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
ওই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন প্রবাসীর বৃদ্ধ মা এবং অল্পের জন্য বেঁচে যান তার অন্ধ বাবা ও ছোট বোনেরা। তারপর থেকে সেই পরিবারকে আর তাদের নিজ বাড়িতে আসতে দেয়নি আউয়াল। আউয়ালের হুমকিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি বাড়ি ফেরা তো দূরের কথা আউয়ালের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে ভয়ে পালিয়ে বেরাচ্ছে। তাদের অভিযোগ রয়েছে, আউয়াল হাওলাদার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এতটাই প্রভাবশালী যে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা প্রশাসনও তাকে থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, আউয়ালের হুমকির মুখে অনেক পরিবার আজ এলাকাছাড়া।
শিলন্দীয়া বাজারে সে সব সময় চাঁদবাজী করে বেরায়।
সুদ কারবারি থেকে রাজনৈতিক নেতা বনে যাওয়া আউয়াল এখন আরও হিংস্র। গত নভেম্বরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে প্রকাশ্য দিবালোকে রবিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে সে তার ক্ষমতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। বর্তমানে সে পুলিশের চোখে পলাতক থাকলেও তার বাহিনীর ভয়ে এখনো তটস্থ ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং আউয়াল সিন্ডিকেটের দ্রুত বিচার দাবি করেন।











