মুহাম্মদ রকিবুল হাসান:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোর সাকিবুল (১৬) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি হলেন আসাদুজ্জামান (৩৪)। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোলাই নতুনপাড়া এলাকার হাফেজ মো. ইদ্রিস আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় বসবাস করতেন এবং একটি বেসরকারি হোটেলে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর মাদ্রাসা গেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, নিহত সাকিবুল মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর-মিতরা এলাকার রহমত আলীর ছেলে। তার বাবা পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। অসুস্থতার কারণে বাবার পরিবর্তে গত ৩০ জুন বিকেলে সাকিবুল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
পরদিন ১ জুলাই ভোরে সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের গোলাইডাঙ্গা-বাংলাবাজার সড়কের পাশে একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২ জুলাই সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই মানিকগঞ্জ।
পিবিআই সূত্র জানায়, তদন্তের শুরু থেকেই ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় নিহতের অটোরিকশার শেষ যাত্রী হিসেবে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে ছদ্মবেশে গোপন অনুসন্ধান চালিয়ে তার পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবশেষে বুধবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পিবিআই।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুজ্জামান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা।
পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে মিতরা স্ট্যান্ড থেকে গোলাইডাঙ্গা যাওয়ার জন্য ২০০ টাকায় সাকিবুলের অটোরিকশা ভাড়া করেন আসাদ। পথে ভাঙা সড়কে অটোরিকশা ঝাঁকুনি দিলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশা রাস্তার পাশে একটি গাছের সঙ্গে আটকে গেলে তারা নিচে নেমে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে সংঘর্ষ চলাকালে আসাদ সাকিবুলকে মারধর করেন এবং মুখ চেপে কাদার মধ্যে উপুড় করে রাখেন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয় বলে পিবিআই দাবি করেছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তের একটি স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের অটোরিকশা সিংগাইর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের অন্যান্য দিকও যাচাই করা হচ্ছে।
পিবিআই মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পীর তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই (নিরস্ত্র) মো. রবিউল ইসলাম। সংস্থাটি জানিয়েছে, মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।






