রোমান মাতুব্বর: ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বরিশাল–ঢাকা মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (০৭ ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে ফরিদপুরের ভাংগা হামিরদী ইউনিয়নের মাধবপুর কবরস্থানের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ ল-১১-৯২৫৭ নম্বরের মোটরসাইকেলটি ফরিদপুরমুখী লেনে চলার সময় অজ্ঞাতনামা একটি দ্রুতগামী যানবাহন মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত স্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী সুমন (২৫) ও ইমন (২২) নিহত হন। তারা দু’জনই কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা।
অপরদিকে গুরুতর আহত অপর আরোহী মোঃ আশিক মোল্লা (২২)–কে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট জনাব মো: রাসেল মিয়া উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি জনাব হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার ও নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। মোটরসাইকেলটি থানায় জব্দ রাখা হয়েছে। অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার কর্মরত পুলিশ সদস্য জনাব আর আমি শাহরিয়ার বলেন
ভাঙ্গায় প্রায় এমন দুর্ঘটনা ঘটার কারন:- ভাঙ্গার বেশকিছু হাইওয়ে রাস্তা গুলোতে ট্রাফিক সাইন বা রোড সাইন না থাকা সহ গতিসীমা না থাকা।
রাস্তায় ট্রাফিক সাইন বা রোড সাইন না থাকলে চালক ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ে,কারণ এগুলো বাধ্যতামূলক নিয়ম, সতর্কতা এবং তথ্য প্রদান করে;
সাইন না থাকলে চালকদের সতর্ক থাকতে হয়, গতি কমাতে হয়, আশেপাশের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কারণ ভুল করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা জীবন ও সম্পদের ক্ষতি করে।
মূলত, ট্রাফিক সাইন না থাকলে গতি কমানো, আশেপাশের যানবাহন ও পথচারীদের দিকে নজর রাখা, এবং সম্ভাব্য বিপদ (যেমন মোড়, বাঁক) সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
কেন রোড সাইন গুরুত্বপূর্ণ?
দুর্ঘটনা প্রতিরোধ: ট্রাফিক সাইন সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনে।
শৃঙ্খলা বজায় রাখা: এগুলো যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সঠিক নির্দেশনা: কোথায় থামতে হবে, কোথায় যেতে হবে, বা সামনে কী ধরনের বিপদ আছে, সে সম্পর্কে ধারণা দেয়।
গতিসীমা না থাকলে যা যা হতে পারে:
দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি: চালকরা নিজেদের সামর্থ্যের চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালাবে, ফলে নিয়ন্ত্রণ হারানো ও মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়ে।
ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা: বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোয় লেন ভাঙা, ঘন ঘন লেন পরিবর্তন করা, এবং ওভারটেকিংয়ের কারণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
যানবাহনের ধরন অনুযায়ী সমস্যা: ট্রাক, বাস, কার, মোটরসাইকেল—সব ধরনের গাড়ির জন্য একই গতিতে চালানো অসম্ভব, যা আরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটায়।
ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি: রাতে বা খারাপ আবহাওয়ায় গতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়।












