মুহাম্মদ রকিবুল হাসান: কুমিল্লা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আলেখারচর এলাকায় এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক চলাফেরা সন্দেহ জাগায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মনে। আর সেই সন্দেহ থেকেই উন্মোচিত হয় এক চাঞ্চল্যকর মাদক পাচারের কাহিনি—যা শুধু বিস্ময়করই নয়, একই সঙ্গে উদ্বেগজনকও।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ এপ্রিল ভোর ৪টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার দুর্গাপুর ইউনিয়নের আলেখারচর এলাকায় চক্ষু হাসপাতালের গলির মুখে অভিযান চালানো হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করা এক ব্যক্তিকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম জানান আব্দুল হাকিম (৪০)। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফে। কথাবার্তায় অসংলগ্নতা ও আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে চাপ প্রয়োগে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সত্য—তার শরীরের ভেতরেই লুকানো রয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা!
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের পাশের একটি টয়লেটে নিয়ে যাওয়া হলে, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে অভিযুক্ত নিজ হাতে বের করেন পলিথিনে মোড়ানো কসটেপ দিয়ে সিল করা ২৪টি গোলাকার প্যাকেট। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ৫০টি করে ইয়াবা ট্যাবলেট। মোট উদ্ধার করা হয় ১২০০ পিস ইয়াবা।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অমানবিক কৌশলে নিজের দেহের ভেতরে লুকিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন হাকিম। বিভিন্ন বাস পরিবর্তন করে কুমিল্লা পর্যন্ত এসে আবার অন্য বাসে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। তার কাছ থেকে ১২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।












