বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিবেদক:
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের লাটুয়ার বাজার। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার এই এলাকায় সরকারি কোনো দরপত্র ছাড়াই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক পরিচয়ে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে বাজারটি পরিচালনা করছে। এতে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বাজারটি পরিচালিত হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র থেকে জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের লাটুয়ার বাজার এলাকার আশপাশ জুড়ে রয়েছে একাধিক সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক এলাকা। এর উত্তরে কংশনগর, দক্ষিণে নিমসার ও কাবিলা এবং পূর্বে ময়নামতি বাজার অবস্থিত। ব্যবসা কেন্দ্রিক এই এলাকাটি উল্লেখিত বাজারগুলোর মাঝামাঝি হওয়ায় এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনেক বেশি।
এই সুযোগে স্থানীয় একটি সুবিধাভোগী চক্র রাজনৈতিক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার দরপত্র ছাড়াই লাটুয়ার বাজারে অলিখিতভাবে গরু, ছাগলসহ অন্যান্য পশু বিক্রি করে আসছে। প্রতিটি বাজারে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গরু ও ছাগল বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। একইভাবে ক্রেতাদেরও ভিড় থাকে বাজারটিতে।
স্থানীয় সূত্র মতে, প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই অননুমোদিত বাজারে কেনাবেচা চলে। এতে বাজার পরিচালনাকারী সিন্ডিকেট সদস্যরা ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করে। অবস্থাভেদে প্রতিটি গরু থেকে সর্বনিম্ন ১,০০০ থেকে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা এবং ছাগল থেকে ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করা হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাজারটির কোনো অনুমোদন না থাকলেও সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বিক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে গরু-ছাগল বাঁধার জন্য খুঁটিও বসানো হয়েছে।
গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কমপক্ষে ৭০-৮০টি গরু এবং প্রায় দেড় শতাধিক ছাগল বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয় সাধারণ খামারিদের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের অনেক ব্যবসায়ীও এখানে পশু কেনাবেচায় অংশ নিচ্ছেন।
তবে দিনের পর দিন ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে। বাজার ঘুরে এর বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে কেউ কেউ ইজারার কথা বললেও অনেকেই জানান, ইজারা ছাড়াই চলছে বাজারের কার্যক্রম।
বিষয়টি জানতে চাইলে ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারটি ক্যালেন্ডারভুক্ত নয়, তাই এটি সরকারি স্বীকৃত নয়। তিনি আরও জানান, তিনি একাধিকবার সরেজমিন গিয়ে বাজারটি বসতে নিষেধ করেছেন।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারটি বসার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। ১৪৩৩ বাংলা সনের শুরু থেকে বাজারটি বসানোর চেষ্টা চলছিল। সম্ভবত গত ২৭ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এটি বসেছে। তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।












