খাদ্যে ক্যান্সারবিরোধী অণুজীব শনাক্তে মোবাইল অ্যাপ

0
131

দিন দিন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মরণব্যাধি ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ ব্যাধি থেকে প্রতিকার পেতে ও প্রতিরোধ করতে নতুন নতুন উদ্ভাবন মানুষকে সচেনত হওয়ার অনেকটা সুযোগ করে দিচ্ছে। সম্প্রতি এমনই একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছে মানুষ। মোবাইল অ্যাপ বিভিন্ন ধরণের খাদ্যের ক্যান্সার অণুজীব শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

‘ড্রিমল্যাব’ নামের এই অ্যাপটি এখন পর্যন্ত ৮৩ হাজারেরও বেশিবার ডাউনলোড করা হয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা ঘুমিয়ে থাকার সময় অর্থাৎ ফোনটি যখন অলস পড়ে থাকে, তখনই এ অ্যাপ কাজ করে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও ভোডাফোন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। এসংক্রান্ত গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে নেচার পত্রিকায়।অ্যাপটি একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করে প্রতিদিন আট হাজারেরও বেশি খাদ্যকণা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকে। এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় বিশদ তথ্যসংবলিত ডাটা বেইস। মূলত এর মাধ্যমে সেই অণুজীবগুলোকে খোঁজা হয়, যেগুলো বিভিন্ন ল্যাব পরীক্ষায় ক্যান্সার দমনে সফল বলে প্রমাণিত হয়েছে। আঙুর, ধনেপাতা ও বাঁধাকপিতে এ ক্যান্সারবিরোধী অণুজীবের সংখ্যা বেশি পাওয়া যায়। এ ছাড়া গাজর, আখরোট ও কমলার মধ্যেও এ ধরনের অণুজীব রয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, বর্তমানে প্রচলিত অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ও অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল ওষুধ ক্যান্সার নির্মূল থেরাপিতে ভূমিকা পালন করতে পারে। ইম্পেরিয়াল কলেজ, লন্ডনের অস্ত্রোপচার ও ক্যান্সার বিভাগের প্রধান গবেষক ড. কিরিল ভেসেলকভ বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। পরবর্তী ধাপে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা হবে যে বিভিন্ন ওষুধের সমন্বয় ও খাদ্যভিত্তিক অণুজীবগুলো মানুষের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে।’

ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের স্বাস্থ্য তথ্য কর্মকর্তা উইলিন উ বলেছেন, ‘এ গবেষণার মাধ্যমে আমরা হয়তো নতুন ক্যান্সার থেরাপি খুঁজে বের করতে বা এর পথ পেতে সক্ষম হব; মূলত যে থেরাপি আমাদের খাদ্য ও পানীয়তে প্রাকৃতিকভাবে আছে।’

উইলিন উ আরো বলেন, ‘ক্যান্সার ঝুঁকি হ্রাস করার ক্ষেত্রে কোনো একটি বিশেষ ধরনের খাদ্য খাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস। তবে এটি প্রমাণিত যে আপনি আঁশযুক্ত খাবার বিশেষ করে ফল ও সবজি বেশি খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারবেন। সেইসাথে প্রক্রিয়াজাত মাংস, লাল মাংস এবং উচ্চ ক্যালরি-যুক্ত খাবার/পানীয় খাওয়ার হার কমিয়ে আনাটাও জরুরি, যোগ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here