ভারত সফরের জন্য অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হওয়ার তিন দিন আগে বেঁকে বসলেন ক্রিকেটাররা। ঘটা করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানালেন ১১ দাবির (পরে দুইটি বেড়ে হয় ১৩ দাবি) কথা, সাফ বলে দেন দাবি পূরণ না হলে কোনো জাতীয় ক্রিকেটার মাঠের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। যে কারণে পিছিয়ে যায় জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের খেলা।

সে সংকট কোনোভাবে সামাল দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, মাঠে ফিরেছিল ভারত সফরের ক্রিকেটারসহ জাতীয় ক্রিকেট লিগের সবাই। কিন্তু ভারত সফরের জন্য উড়াল দেয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে দেশের ক্রিকেটে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। জুয়ারিদের প্রস্তাব গোপন রাখার অপরাধে নিষিদ্ধ হন জাতীয় দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

পারিবারক কারণ দেখিয়ে দল থেকে সরে দাঁড়ান অভিজ্ঞ তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল। পুরনো ইনজুরির কারণে ছিটকে যান দলের নিয়মিত মুখ সাঈফউদ্দিনও। সাকিবের নিষেধাজ্ঞা ও তামিম-সাঈফকে হারিয়ে ভারত সফরের আগে বাংলাদেশ দল যেনো ডুবে যাচ্ছিলো আঁধারের সমুদ্রে।

কিন্তু গত রোববার ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দেখা যায়নি এসবের ছিটেফোঁটাও। ফিল্ডিংয়ের সময় আগ্রাসী পুরো দল, সবাই যেনো উজ্জীবিত ছিলো, ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেবো সূচাগ্র মেদিনী’ মন্ত্রে। পরে ব্যাট হাতেও অভিষিক্ত নাইম, ড্যাশিং ব্যাটসম্যান সৌম্য ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীমরাও দেখিয়েছেন প্রত্যয়ী মনোভাব।

যার সুবাদে নবম সাক্ষাতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ভারতবধের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ দল। কীভাবে সম্ভব হলো এটি? নানান নেতিবাচকতায় ডুবতে থাকা একটি দল, ভারতের মতো প্রতিপক্ষকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে দিল- এর পেছনে রহস্যটাই বা কী? উত্তর জানিয়েছেন দলের তরুণ অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুব।

মূলত স্বাধীনতার মন্ত্রেই বদলে গেছে বাংলাদেশ দল- এমনটাই মনে করেন আফিফ। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সবাই আগ্রাসী থাকার পরিকল্পনাতেই সাফল্য মিলেছে জানিয়ে আফিফ বলেন, ‘দলের পরিকল্পনা ছিল,ফিল্ডিংয়ে সবাই আগ্রাসী থাকব। মাঠে সেটাই করার চেষ্টা করেছি। ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারে অনেক জোর দেওয়া হচ্ছে, যেন প্রত্যেকটা সুযোগ কাজে লাগাতে পারি।’

bangladesh

এছাড়া কোচ এবং অধিনায়ক- দুজনই দিয়েছেন নিজেদের মতো করে খেলার স্বাধীনতা। যা কি না সাহায্য করছে সেরা পারফরম্যান্স মাঠে উজাড় করে দিতে, ‘আমাদের অধিনায়কের বার্তা ছিল, যে যেটা সবচেয়ে ভালো পারে, সেটাই করতে হবে। একটা দল হিসেবে খেলতে হবে। এটাই ছিল আমাদের প্রতি তার বার্তা। কোচ আমাদের বলেছেন, সব সময় মন খুলে খেলতে। যে যেভাবে খেলতে পছন্দ করে, তাকে সেভাবে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে বলেই এভাবে খেলতে পারছে।’

আফিফ আরও বলেন, ‘সবাই নিজের জায়গা থেকে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিকল্পনাই ছিল দলের। আমরা অনুশীলনে এভাবেই চেষ্টা করেছি। সবাই একসঙ্গে থেকেছি। আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড়রা জুনিয়রদের অনেক সহায়তা করছেন। এটা আমাদের ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে অনেক সাহায্য করেছে। তারা সব সময় সহায়তা করে যাচ্ছেন। আশা করি সামনেও কোনো সমস্যা হবে না।’

সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে টাইগারদের লক্ষ্য এখন সিরিজ নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) খেলতে নামবে তারা। বাংলাদেশের লক্ষ্য যেমন সিরিজ নিশ্চিত করা, তেমনি ভারতের চেষ্টা থাকবে সিরিজে সমতা ফেরানো। তবে সেসব না ভেবে নিজেদের নিয়ে কাজ করার দিকেই বেশি মনোযোগী তরুণ আফিফ।

তিনি বলেন, ‘এখন ড্রেসিংরুমের অবস্থা ভালো। আমরা পরের ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিজেদের খেলা নিয়ে ভাবছি। নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করার পর দেখা যাবে। আপাতত সবার জায়গা থেকে আমাদের সেরা পারফরম্যান্সটা করার চেষ্টা করব। ম্যাচ জিতলে আসলে তেমন ভুল বের হয় না। এরপরও ব্যক্তিগতভাবে যার যে ভুল-ত্রুটি ছিল, সে সেগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবে।’