কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ভারত সরকারের নতুন এই পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে সংঘাত উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্বের জনপ্রিয় গণমাধ্যমগুলো।

বিজেপি সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বা স্বায়ত্বশাসন তুলে নেওয়ার পর বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সব গণমাধ্যম। এই ঘটনা উপমহাদেশের রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, কাশ্মীরের মর্যাদার বিষয়ে ভারতের যেকোনও সরকারের সবচেয়ে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। রিপোর্টে কাশ্মীরকে ভেঙে দুই ভাগ করার ঘটনাকে ‘নাটকীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, এতে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়বে এবং জম্মু ও কাশ্মীরীদের কাছ থেকে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়বে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

আল জাজিরা অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, ভারত রাষ্ট্রপতির এক ডিক্রির মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে। গত সাত দশকেরর মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটির জন্য এটি সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। 

আল-জাজিরা আরও লিখেছে, এই পদক্ষেপের সমালোচকরা বলছেন, সরকার আশা করছেন আর্টিকেল-৩৭০ বাতিলের মাধ্যমে হিন্দুদের কাশ্মীরে জমি কিনে বসবাসের ধারা তৈরি করে তারা মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের জনসংখ্যার চিত্র পাল্টে দিতে পারবেন।

বিবিসি ওয়ার্ল্ডের খবরে ভারত সরকারের পদক্ষেপকে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে দেখা হয়েছে। এর ফলে কাশ্মীরে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে বলেও জানিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম সিএনএন লিখেছে, কাশ্মীরের শাসন পদ্ধতিতে বিতর্কিত এক পরিবর্তন এনেছে মোদী সরকার।

সিএনএন অনলাইন তাদের রিপোর্টে লিখেছে, কাশ্মীর কার্যত স্তব্ধ এখন। একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এই পদক্ষেপকে কাশ্মীরবাসীর জন্য ‘মানসিক আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সিএনএন।
 
আরেক মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, মোদী সরকারের এই পদক্ষেপ সেখানে নতুন করে সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। এতে বলা হয়েছে, নয়া দিল্লির সাথে জম্মু ও কাশ্মির সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে এর ফলে।

পাকিস্তানের দ্য ডন নিউজ বলেছে, কাশ্মীরকে মুসলিম প্রধান এলাকা থেকে হিন্দুপ্রধান এলাকা করে তোলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।